শেরপুর বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
ব্রেকিং নিউজ
স্কুল ছাত্রী রিশাকে দায়িত্ব ও সচেতনতার জন্য পুরস্কার দিলেন শেরপুর জেলা প্রশাসক চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নতুন আইন হচ্ছে : আইজিপি ঝিনাইগাতী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৫০ বোতল ভারতীয় মদসহ আটক ২ নকলায় মাদক, জুয়া ও অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের মতবিনিময় আগামীকাল খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেরপুরের ঝিনাইগাতী সীমান্তে ৮৪ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ শেরপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন সদর থানার খোকন চন্দ্র ঘোষ শেরপুরে ছয় পুলিশ সদস্যের সন্তানরা পেলেন পুলিশ মেধা বৃত্তি অর্থ, সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ শেরপুরে পর্যটন দিবসে ‘আমাদের শেরপুর’ সেলফি কর্নার উদ্বোধন শেরপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

শেরপুরের কৃতি সন্তান ডা. আসাদুজ্জামান: অনন্য সেবার মাধ্যমে মানবিক চিকিৎসক হিসেবে জনমনে স্থান পেয়েছেন

শেরপুরের কৃতি সন্তান ডা. আসাদুজ্জামান: অনন্য সেবার মাধ্যমে মানবিক চিকিৎসক হিসেবে জনমনে স্থান পেয়েছেন
News Banner

শেরপুর জেলার মানুষের কাছে পরিচিত ও প্রিয় মুখ চিকিৎসক ডা. মোঃ আসাদুজ্জামান। নিষ্ঠা, মানবিকতা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীল চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি চিকিৎসা অঙ্গনে নিজের একটি আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে শেরপুর জেলার পাঁচ উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী অন্য উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত থেকে তিনি অর্জন করেছেন রোগী ও সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা। আর অনন্য সেবার মাধ্যমে নিজেকে একজন মানবিক চিকিৎসক হিসেবে জনমনে স্থান করে নিয়েছেন।
চিকিৎসা পেশায় যোগদানের পর থেকেই ডা. আসাদুজ্জামান অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। জুনিয়র কনসালটেন্ট পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে তিনি  ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেরপুর জেলা হাসপাতালে সহকারী অধ্যাপক (ইন সিটু) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এই পদোন্নতিকে শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, শেরপুর জেলার মানুষের জন্যও একটি গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, ২০১৪ সালে চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই ডা. আসাদুজ্জামান শেরপুরের মানুষের সঙ্গে চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে নিবিড়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। কর্মস্থলের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের চিকিৎসা প্রয়োজন ও অসহায় রোগীদের প্রতিও তিনি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে এসেছেন।
গরিব ও অসহায় রোগীদের পাশে মানবিক চিকিৎসক ডা. আসাদুজ্জামানের সবচেয়ে প্রশংসনীয় দিকগুলোর একটি হলো তাঁর মানবিক আচরণ। স্থানীয়দের ভাষ্য, দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের অনেকেই তাঁর কাছ থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেয়েছেন। আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের প্রতি তাঁর সহানুভূতিশীল আচরণ তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
রোগীদের সঙ্গে তাঁর ব্যবহারও অত্যন্ত চমৎকার। জটিল চিকিৎসা বিষয়গুলো রোগীদের বোঝার মতো করে ব্যাখ্যা করা, ধৈর্য ধরে রোগীর কথা শোনা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার কারণে অনেক রোগীর কাছেই তিনি একজন আস্থার চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয়দের মতে, একজন চিকিৎসকের কাছে শুধু চিকিৎসাজ্ঞান থাকলেই হয় না; রোগীর প্রতি মমতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতাও প্রয়োজন। এসব গুণের সমন্বয় ডা. আসাদুজ্জামানের মধ্যে দেখা যায় বলেই তিনি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। শেরপুরের গর্ব ডা. আসাদুজ্জামানের সাফল্য ও পদোন্নতিতে শেরপুরের নকলা উপজেলার মানুষও আনন্দিত ও গর্বিত। 
ডা. আসাদুজ্জামান পারিবারিকভাবেও নকলা উপজেলার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তিনি নকলা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মরহুম মতিন আজাদের মেয়ের জামাতা। এ কারণে তাঁর সঙ্গে নকলার মানুষের সম্পর্ক আরও নিবিড় হয়ে উঠেছে। অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন, সাদাসিধে চলাফেরা এবং বিনয়ী আচরণের কারণে তিনি স্থানীয় মানুষের কাছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন। চিকিৎসক হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করলেও তাঁর ব্যক্তিত্বে অহংকারের ছাপ নেই—এমনটাই মনে করেন তাঁর পরিচিতজনেরা।
কর্মজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও নকলার মানুষের সঙ্গে তাঁর চিকিৎসাসেবার সম্পর্ক ধরে রেখেছেন ডা. আসাদুজ্জামান। শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে সরকার নির্ধারিত সময়ে দায়িত্ব পালনের পর অন্য সময়ে শেরপুর শহরের নারায়ণপুর এলাকায় অবস্থিত আধুনিক প্যাথলজী এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন।
মানবিক চিকিৎসক ডা. আসাদুজ্জামানের জুনিয়র কনসালটেন্ট থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাওয়ায় তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী, রোগী ও পরিচিতজনেরা আনন্দিত। তবে একই সঙ্গে শেরপুরে মেডিকেল কলেজ না থাকায় তাঁর কর্মস্থল পরিবর্তন হতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। পদোন্নতির পর তিনি হয়তো কর্মসূত্রে অন্যত্র চলে যাবেন। এতে শেরপুর জেলাবাসী একজন প্রিয় চিকিৎসককে নিয়মিত কাছে পাওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। তবে তাঁর কর্মজীবনের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পথচলার জন্য স্থানীয়দের শুভকামনা থাকবে সবসময়। চিকিৎসা পেশায় তাঁর সাফল্য আরও বিস্তৃত হোক, দেশের মানুষের কল্যাণে তাঁর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগুক—এটাই শেরপুর জেলাবাসীর প্রত্যাশা।

এই সংবাদটি পঠিত হয়েছে: 819 বার
দেবাশীষ সাহা রায়

দেবাশীষ সাহা রায়

উপদেষ্টা সম্পাদক

এই সাংবাদিকের মোট খবর: 103 টি

মন্তব্য করুন